যশোরের গদখালীতে ১৫ কোটি টাকার গোলাপ বিক্রি

Published: Fri, 14 Feb 2020 | Updated: Fri, 14 Feb 2020

যশোর সংবাদদাতা : ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালীতে গোলাপের দাম রেকর্ড ভেঙেছে। প্রতি পিস ১৮-২০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করেছেন চাষীরা। যা স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দাম বলছেন সংশ্লিষ্টরা। গত এক সপ্তাহে গদখালীতে ১৫ কোটি টাকার উপরে গোলাপ বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে এ ফুল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকার ওপরে।

গোলাপের রেকর্ড পরিমাণ দাম পেলেও খুশি নন চাষিরা। কুঁড়ি পচা রোগ ও বৈরী আবহাওয়ায় গোলাপ উৎপাদনে ধস নেমেছে বলে দাবি গদখালী এলাকার ফুলচাষীদের। এজন্যই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। গদখালী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বাহারী ফুলের মেলায় কৃষকের মুখে স্বপ্নের ঝিলিক। বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় জমিয়েছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের মোকলেসুর রহমান জানান, আমি দুই বিঘা জমিতে পলি হাউজে গোলাপ আবাদ করেছি। এতে ফুলের রঙ ও আবাদ ভালো হয়। নীলকণ্ঠনগর গ্রামের চাষী কামারুল ইসলাম জানান, তিনি ৫০ শতক জমিতে পলিহাউজের মাধ্যমে গোলাপের আবাদ করছেন। এতে ফুলের রঙ ও উচ্চতা সঠিক মাপে হচ্ছে। পটুয়াপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে গোলাপের আবাদ করছেন। 
হাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সলেমান জানান, চার বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে ৭ হাজার পিস গোলাপ ফুল বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতি পিস ফুলের দাম পেয়েছেন ১৫-২০ টাকা। ভালোাবাসা দিবস আর বসন্তবরণ অনুষ্ঠান ঘিরে গোলাপের চাহিদা বেশি থাকে।
 যশোরের গদখালীতে ১৫ কোটি টাকার গোলাপ বিক্রি
এদিকে সপ্তাহজুড়ে ফুলের রাজধানী গদখালীতে জমজমাট ছিল ফুল বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা কিনেছেন নানা প্রজাতির ফুল। বাজারে সব রকমের ফুলের দাম বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল গোলাপের দাম। আড়ৎদাররা জানালেন, প্রতি পিস গোলাপ ১৫-২০ টাকা, রজনীগন্ধা ২-৩ টাকা, গ্লাডিওলাস তিন থেকে আট টাকা, জারবেরা পাঁচ থেকে ১০টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ২ থেকে ৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও গাঁদা ফুল প্রতি হাজার একশ থেকে দেড়শ টাকা, জিপসি ও রথস্টিক ফুল ১৮ থেকে ২০ টাকা আঁটি (মানভেদে) বিক্রি হয়েছে।

গদখালীর পাইকারি ফুল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসে গোলাপের আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গাঁদা ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। চাষীদের কাছ থেকে কিনে সাতক্ষীরা ও ফরিদপুরে সরবরাহ করি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি ও গদখালি ফুল চাষি কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে ফুলের উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। এছাড়াও গোলাপ ক্ষেতে ভাইরাস লেগে উৎপাদনে ধস নেমেছে। ভাইরাসের আক্রমণে গোলাপের কুঁড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য চাহিদার তুলনায়  গোলাপ মিলছে না। সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, সারাদেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এই ফুলকে কন্দ্র করে। প্রায় ২০ হাজার কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরমধ্যে কেবল যশোরেই প্রায় ৫-৬ হাজার ফুলচাষি রয়েছেন। সারাবছর টুকটাক ফুল বিক্রি হলেও মূলত ফেরুয়ারি মাসের তিনটি দিবসকে সামনে রেখেই জোরেশোরে এখানকার চাষিরা ফুল চাষ করে থাকেন। এবার ফুলের দাম বাড়ার কারণে ৪০ কোটি টাকা বিক্রি ছাড়িয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকার গোলাপ ফুল বিক্রি হয়েছে। 

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যশোরে ফুলের আবাদ হয়েছিল ৬৩২ হেক্টর, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৩৩ হেক্টর এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ৬৩৬ হেক্টর জমিতে। চলতি বছরেও প্রায় একই পরিমাণ জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছে। ফুল উৎপাদন হয়ে থাকে প্রায় ৬০ লাখ পিস। 

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক এমদাদ হোসেন জানান, এ জেলায় ৬৩২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের আবাদ করা হয়েছে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ ভাগই যশোরের গদখালী থেকে সরবরাহ করা হয়। গদখালীর চাষিরা পলিহাউজে ফুলের আবাদ করায় সঠিক মাত্রায় গোলাপ উৎপাদন হচ্ছে।

 

-এমজে