করোনাভাইরাস : এনজিও’র ঋণ আদায় বন্ধের দাবি গ্রাহকদের

Published: Mon, 23 Mar 2020 | Updated: Mon, 23 Mar 2020

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও : করোনাভাইরাস নিয়ে যখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষজন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিনপার করছে, ঠিক তখনও ঠাকুরগাঁওয়ের সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থা আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ইএসডিও, ব্রাক, টিএমএসএস প্রভৃতি এনজিওগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণের কিস্তি তোলা বন্ধ করেনি। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। 

করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ এক প্রকার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর কাজে যেতে পারছে না। আয় রোজগার বন্ধে সংসার নির্বাহ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তখন তাদের তাড়া করে চলেছে এনজিও’র কিস্তি। ক্ষুদ্রঋণের কথা মাথায় নিয়ে দিশেহারা। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে অবশ্য এ অবস্থা গোটা দেশেই। কাকডাকা ভোরে এনজিও’র কিস্তি আদায়কারীরা বেরিয়ে পড়েন। 

টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আর রক্ষা নেই। যেভাবেই হোক কিস্তির টাকা তাদের চাইই। জেলার অনেকে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সমিতির ঋণের কিস্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কাজ বন্ধের কথা মনে হলে ঋণের কিস্তি শোধের চিন্তায় কপালে ভাজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। রুহিয়া থানা এলাকার বৈরাগী হাঁটে ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাজেল ও কলেশ্বর জানান, আমাদের নিজেদের কোনো টাকা নেই। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দোকান করি। ঘরে থাকতে হলে তো দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তখন ঋণের কিস্তি শোধ করবো কীভাবে? 

শ্রমিক পরেশ, সৈতেন ও বৈশাখী  বলেন, আমাদের তো কাজ করলে পেটে ভাত জোটে, না করলে জেটে না। আমরা কীভাবে ঘরে থাকবো? এর ওপর কমবেশি কিস্তি আছে সবার। সরকারের কাছে অনুরোধ ভাইরাস যতদিন না যায় ততদিন অন্তত আমাদের কিস্তিটা বন্ধ রাখুন। একদিকে করোনার আতঙ্ক তার ওপর কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়বো। আমাদের জন্য একটু লিখুন। 

সদরের রোড এলাকার চা বিক্রেতা মো. কবির আলম বলেন, দুপুরের দিকে প্রতিদিন দোকানে ভিড় থাকে। এখন রাস্তায় মানুষ খুব কম। তাই বিক্রিও কমে এসেছে। এই দোকানের আয় থেকে ছয় সদস্যের সংসার চলে। পাশাপাশি দোকান চালানোর জন্য দুটি সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছি। সেখানে একটিতে সপ্তাহে ১ হাজার ৬০০ শ’ টাকা ও অপরটিতে মাসে ২৫০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, এই সংকটের সময়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি উত্তোলন স্থগিত করা হোক। না হয় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আরও অতিষ্ঠ হবে প্রান্তিক জনজীবন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মী জানান, ঋণ বিতরণ করার পর উত্তলন করার দায়িত্ব আমাদের। কেউ কিস্তি না দিলে পকেট থেকে অফিসকে দিতে হয়। আমাদেরও চাকরি বাঁচাতে হবে। সরকার কিস্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত দিলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চাকরি করতে হলে অফিস যা বলবে আমাদেরও তো তাই করতে হবে। 

করোনার বিস্তার রোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। এই একই চিত্র বিরাজ করছে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের সর্বত্রে। চড়া সুদে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েই যেসব এনজিও’র ব্যবসা, তাদের কাছে করোনা কোন ব্যাপার না। তাদের সাফ কথা যেকোন পরিস্থিতিতে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের একাধিক ঋণ গ্রহীতা জানান, বেসরকারি সংস্থা আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ইএসডিও, ব্রাক, টিএমএসএসসহ ডজনখানেক এনজিও’র কাছে হাজার হাজার গরীব অসহায় মানুষের হাত-পা বাঁধা পড়েছে। এখনি দরকার করোনার ভয়াবহতা কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষুুদ্র ঋণ আদায় বন্ধে এনজিও ব্যুরোসহ সরকারের নির্দেশনা।

ও/ডব্লিউইউ