চীন থেকে আসা ৩১২ জন বাড়ি ফিরছেন শনিবার 

Published: Thu, 13 Feb 2020 | Updated: Thu, 13 Feb 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর চীনের অবরুদ্ধ নগরী উহান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশি দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ শেষে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন থেকে ফেরা এই বাংলাদেশিরা ‘কোয়ারেন্টিনের শেষ পর্যায়ে’ আছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পর্যবেক্ষণের ১৪ দিন পূর্ণ হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ তারিখ আমরা তাদের ছেড়ে দেব। এখানে আর কোনো সমস্যা নেই। তাদের সবাই ভালো আছেন।’ 

গতবছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমণের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে উহানসহ হুবেই প্রদেশের একটি বড় অংশে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন সরকার। 

ফলে উহানের ১ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া ও গবেষণায় থাকা কয়েকশ বাংলাদেশিও কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে পড়েন। চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় এ ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। 

এরপর ১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফেরেন ৩১২ জন বাংলাদেশির প্রথম দলটি। আটজনের শরীরে জ¦র থাকায় তাদের ঢাকার দুটি হাসপাতালে রেখে বাকিদের আশকোনা হজক্যাম্পে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৩০১ জন এখন আশকোনা হজক্যাম্পে আছেন, বাকি ১১ জন আছেন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কারও মধ্যেই করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি বলে জানিয়ে আসছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর। 

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রমাণ হওয়ার আগে এ ধরনের কথা ছড়ানো ঠিক নয়। 

গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দুয়েকটি ঘটনা শুনছি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। রংপুরে একজন ভর্তি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নানা অসুখ বিসুখ নিয়ে লোকজন ভর্তি হয়। আমাদের কখনোই মনে করা উচিত না তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যে পর্যন্ত প্রমাণ না হয় তার আগ পর্যন্ত তাকে যেন এটা আমরা না বলি। এ ধরনের কথা বললে আতঙ্ক ছড়ায়। 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক উপসর্গ হয় ফ্লু বা নিউমোনিয়ার মত। কিন্তু বয়স্ক এবং অন্য অসুস্থতা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সংক্রামক রোগ হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এর কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সাধারণভাবে সেগুলো সারানোর জন্যই চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অবস্থা গুরুতর হলে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। 

এ করোনাভাইরাসকে এতদিন নভেল বা নতুন করোনাভাইরাস বা সংক্ষেপে ২০১৯-এনসিওভি বলা হচ্ছিল। এ ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করছে তার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস ডিজিজ)। নতুন এ করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৩৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার। মৃত্যু ও সংক্রমণের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে চীনের উহান প্রদেশে। 

প্রথম দফায় ৩১২ বাংলাদেশিকে ফেরানো হলেও হুবেইয়ের বিভিন্ন শহরে আটকা পড়া অন্য বাংলাদেশিরা এখনও দিন কাটাচ্ছেন অবরুদ্ধ অবস্থায়। কেবল উহানেই এখনও আটকে আছেন অন্তত ১৭১ জন। উহানের পাশের শহর ইচাংয়েও ১৭২ জন আটকে আছেন, তারাও দেশে ফিরতে আগ্রহী। সরকার তাদেরও ফিরিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু প্রথম দলটিকে চীন থেকে উড়িয়ে আনা বিমানের পাইলটদের এখন অন্য দেশ ঢুকতে না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। 

এই পরিস্থিতিতে অন্য কোনো পাইলটকে আর চীনে পাঠানোর ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন স্পষ্ট করেই বলেছেন, চীন থেকে বাংলাদেশি কাউকে এই মুহূর্তে আর সরকারিভাবে দেশে ফেরানো হচ্ছে না। ব্যক্তিগত খরচে কেউ ফিরলে সরকার পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

আইআর /