বন্যাকবলিত এলাকায় বাড়ছে নদীভাঙন, দীর্ঘ হচ্ছে বাস্তুহারাদের সারি

Published: Sun, 27 Sep 2020 | Updated: Sun, 27 Sep 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : দেশে নদীভাঙনে আশঙ্কাজনক হার ভূমিহীনের সংখ্যা বাড়ছে। নদ-নদীর পানি ঘন ঘন হ্রাস-বৃদ্ধিতে দেশের উত্তর প্রান্তের বন্যাকবলিত জেলাগুলোয় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের ভিটেমাটিসহ শেষ সম্বল নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। আর সব হারানো ওসব পরিবার সরকারি রাস্তা বা অন্যের জমিতে ঠাঁই নিতে বাধ্য হচ্ছে।

গত দু’মাসে শুধুমাত্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নেরই চার শতাধিক পরিবার তিস্তার ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে। এভাবে ক্রমেই বাড়ছে ভূমিহীনের সংখ্যা। তাছাড়া বিগত কয়েকদিন বৃদ্ধির পর বর্তমানে আবার হ্রাস পাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি।

তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার সব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। তাতে মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি হ্রাস পাচ্ছে। স্থিতিশীল আছে গঙ্গা-পদ্মার পানি। সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আপার মেঘনা অববাহিকার সব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের নদীর পানি ঘন ঘন হ্রাস-বৃদ্ধিতে যমুনা, ধরলা, তিস্তাসহ বেশ কিছু নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে । ভিটেমাটি হারিয়ে প্রতিদিনই নিঃস্ব হচ্ছে কোনো না কোনো পরিবার। সব হারিয়ে ইতিমধ্যে অনেক পরিবারের বাঁধ, সরকারি সড়ক বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। ওই পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাছাড়া ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও।

সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধায় ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও করতোয়ার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেগুলো এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ওই এলাকায় গত দু’মাসে তিস্তার ভাঙনে চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকিতে রয়েছে।

ওই এলাকায় ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত নাজিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নাজিমাবাদ বি-এল উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নাজিমাবাদ দাখিল মাদ্রাসা ও ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কাশিমবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বার বার যোগাযোগ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

সূত্র আরো জানায়, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে লালমনিরহাটের সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে চরাঞ্চলের লাখো মানুষ। বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানিতে তলিয়ে রয়েছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমি। উজানের পানির সঙ্গে আসা বালিতে ঢেকে গেছে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ফসলের জমি। অনেকের ঘরে খাবার থাকলেও রান্না করতে পারছে না। আবার অনেকের ঘরে খাবারই নেই। ফলে নদীপাড়ের মানুষের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। রাস্তা-ঘাট ডুবে থাকায় কলার ভেলাতে চলাচল করছে ৬৩ চরের মানুষ।

পরিস্থিতি বিবেচনায় পাউবো সংশ্লিষ্টদের মতে লালমনিরহাটসহ রংপুর অঞ্চলে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তাছাড়া পানি কমা ও বাড়ার কারণে লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলাপাড়ের অনেক স্থানেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নদী পাড়ের মানুষ। বাধ্য হয়ে ওসব পরিবারকে সরকারি রাস্তা ও অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন দীর্ঘ হচ্ছে বাস্তুহারা পরিবারের সংখ্যা।

ও/এসএ/