রিমান্ড শেষের আগেই জ্বরাক্রান্ত পাপিয়া কারাগারে

Published: Wed, 01 Apr 2020 | Updated: Wed, 01 Apr 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের চলমান প্রকোপে দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়াকে আপাতত আর জিজ্ঞাসাবাদ করছে না র‌্যাব। পরিস্থিতি ভালো হলে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফি উল্লাহ বুলবুল।

বুধবার (১ এপ্রিল) তিনি বলেন, রিমান্ডের তৃতীয় দিন থেকেই তার জ¦র ছিল। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা সেটা পরীক্ষাও করা হয়েছে। পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। আমরা এরপরই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছি।

‘পরিস্থিতি ভালো’ হলে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে আদালতের মাধ্যমে পাপিয়াকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন কয়েকদিন আগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাপিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা করা হয়েছিল। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ২০ মার্চ আদালত থেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে, বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে তাকে কাশিমপুরের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

গত ১১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে (মতি সুমন) তিন মামলায় ৫ দিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পায় র‌্যাব। এর আগেও প্রথম দফায় দুইজনকে ১৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ।

ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী (মতি সুমন) এবং তাদের দুই সহযোগী গ্রেফতার হন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতারের সময় পাপিয়াদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা হয় জাল নোটের মামলাটি, যাতে পাপিয়া ও তার স্বামীর সঙ্গে তার দুই সহযোগীকেও আসামি করা হয়।

আর ওয়েস্টিন হোটেলে পাপিয়ার ভাড়া করা প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট এবং ইন্দিরা রোডে পাপিয়াদের দুটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল মদ উদ্ধারের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা হয় দুটি মামলা। অস্ত্র ও মাদক আইনের এ দুই মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীকেই কেবল আসামি করা হয়। তিনটি মামলাই তদন্ত করছে র‌্যাব। এছাড়া গত ২১ মার্চ পাপিয়া ও স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় আরেকটি মামলা করেছে সিআইডি। 

ও/এসএ/