‘লালদীঘি হামলার নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনা উচিত’

Published: Tue, 21 Jan 2020 | Updated: Tue, 21 Jan 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের জনসভায় হামলার জন্য ঢাকা থেকে যাঁরা নির্দেশ দিয়েছিল তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।  মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নবনির্বাচিত পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

৩২ বছর পর এ হত্যা মামলার রায় শেষ হওয়ায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সরকারের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করার জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর নিয়ে আসছিলেন। সেই গাড়ি বহরের সামনে একটি মিছিল ছিল। সেই মিছিলে আমি ছিলাম। আমরা যখন কোতোয়ালির মোড় অতিক্রম শুরু করি তখন থেকে গুলি শুরু হয়। নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদিও নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে ২৪ জন, কিন্তু এ সংখ্যাটা আরও বেশি। কারণ সেদিন অনেক লাশ গুম করে ফেলা হয়েছিল। আমাদের হিসাব মতে সেটি অবশ্যই ৩০ জনের বেশি। কারো কারো মতে সেটি ৩৬ জন। কিন্তু অনেকগুলো লাশ গুম করে ফেলার কারণে সংখ্যা অনেক কমে আসে। ৩২ বছর পর এ হত্যা মামলার রায় হয়েছে। এজন্য অবশ্যই আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমি মনে করি এ গণহত্যা চালানোর জন্য ঢাকা থেকে যাঁরা নির্দেশ দিয়েছিল তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১৯ বছর আগে সিপিবির সমাবেশে যেভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল সেটিরও যে বিচার হয়েছে এজন্য সন্তোষ প্রকাশ করছি। ২৪ জানুয়ারির হামলা ও সিপিবির সমাবেশে হামলা গণতান্ত্রিক শক্তি ও প্রগতিশীল শক্তিকে ধ্বংস করার জন্যই হয়েছিল। যাঁরা এ হামলাগুলো করেছিল, তাদের উত্তরসূরিরা কিন্তু এখনো সক্রিয়। আমাদের এজন্য এখনো সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয় দেশের আইন ও আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে বিরোধীদলের সমাবেশে যখন পুলিশ গুলি করে তখনতো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন। তা হলে এটা তার নির্দেশে হয়েছিল কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে এরকম নির্দেশ না থাকলে চট্টগ্রামে পুলিশ প্রশাসন এভাবে দেশের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বৃহত্তম রাজনীতিক দলের সভাপতির মিছিলে পুলিশ গুলি চালাতে পারে না। সুতরাং, তখন যাঁরা ক্ষমতায় ছিল নিশ্চয়ই তাদের পক্ষ থেকে নির্দেশটা এসেছিল। কে নির্দেশ দিয়েছিল সেটি এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। সেটি তদন্তের বিষয়। কিন্তু তদন্ত করে যাঁরা নির্দেশ দিয়েছিল তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তারা তো আপনাদের মহাজোটের অংশ- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের কোনো মহাজোট নেই। মহাজোট ছিল আগে। 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নবনির্বাচিত পরিষদের সঙ্গে এক মতমিনিময় সভায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই সভায় তিনি বলেন, চলচ্চিত্র মানুষের জীবনের কথা বলে, সমসাময়িক কালকে সংরক্ষণ করে। যেকোনো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে বার্তা দেওয়া হলে তা দেশ গঠনে কাজে আসবে। চলচ্চিত্র শিল্পের বন্ধ্যাত্ব কেটে গেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি এখন হলে যাচ্ছেন, তারা সিনেমা হলের অভাব অনুভব করছেন, চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসছে। দেশে অনেকগুলো সিনেপ্লেক্স আসছে। আশা করছি আগামি এক দুই বছরের মাথায় চলচ্চিত্র শিল্প আরও প্রসারিত হবে।

অনুদানের চলচ্চিত্র সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে অনুদান দেওয়ার সময়ই নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করার জন্য ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিলেছে। শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

এসএ/