প্রতিটি আঙ্গুলের নামকরণ হলো কিভাবে?

Published: Sat, 11 Jan 2020 | Updated: Sat, 11 Jan 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : হাতের পাঁচটি আঙ্গুল একরকম নয়। না মাপে, না নামে। বাস্তব জীবনে আমরা প্রতিটি আঙ্গুলকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে চিনি। ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করি। অনেকেরই মনে কৌতুহল জাগতে পারে, কীভাবে আঙ্গুলের এই নামকরণগুলো হয়েছে!

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানুষের আঙুল কোনো নাম দিয়ে নয়, বরং সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। বুড়ো আঙ্গুল এক নম্বর। এরপরের গুলো যথাক্রমে দুই, তিন, চার, পাঁচ দিয়ে নির্দেশ করা হয়। তবে বাস্তবিক জীবনে আমরা প্রতিটি আঙ্গুলের একটি করে নাম ব্যবহার করি। প্রশ্ন হলো কীভাবে হয়েছে এই আঙ্গুলের নামকরণ? 

প্রথম আঙ্গুলটিকে ইংরেজিতে থাম্ব বলা হয়, যা বাংলায় প্রচলিত বুড়ো আঙ্গুল বা বৃদ্ধাঙ্গুলি হিসেবে। সম্ববত দেখতে বুড়োদের মতো বলেই আঙ্গুলটিকে বলা হয় বৃদ্ধাঙ্গুলি। 

দুই নম্বর আঙ্গুলকে বাংলায় বলে তর্জনী। আর ইংরেজিতে বলে ইনডেক্স ফিঙ্গার। ল্যাটিন শব্দ ‘ইন্ডিকেটস’ থেকে এসেছে ইনডেক্স শব্দটি যার অর্থ কোনো কিছু নির্দেশ করা। এই আঙ্গুল  দিয়ে আসলেই যেকোন দিক বা বস্তু নির্দেশ করা হয়। বাংলাতে একটা শব্দবন্ধ আছে ‘তর্জন-গর্জন’। ভাষণ দিয়ে গিয়ে দিয়ে গেলে নেতারা সাধারণত এই আঙ্গুলটি উচিয়ে রাখেন। তর্জনী শব্দটা এখান থেকেই এসেছে বলে অনেকের ধারণা। 

পরের আঙ্গুলটার নাম ‘মিডল ফিঙ্গার’ বা ‘মধ্যমা’। এটি কেনো রাখা হয়েছে, তা বোঝাটা খুবই সহজ। এটি পাঁচটি আঙ্গুলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। দুইপাশ থেকে গুণলেই তিন নম্বরে এর অবস্থান।

চার নম্বর আঙ্গুলটি ইংরেজিতে পরিচিত ‘রিং ফিঙ্গার’ হিসেবে। আমাদের এই অঞ্চলে এই আঙ্গুলের বিশেষ কোনো নাম না থাকায় এটির নাম দেওয়া হয় ‘অনামিকা’, যার অর্থ নামহীন। ইংরেজিতে এর নাম ‘রিং ফিঙ্গার’ হওয়ার কারণ খুবই স্পষ্ট। পশ্চিমারা মনে করত, আঙ্গুলটির সঙ্গে হৃদয়ের সরাসরি যোগ আছে। আর তাই তারা বিয়ে করার পর বিয়ের আংটি এই আঙ্গুলে পরত। এখন সেই রীতিটিই সারাবিশ্বে প্রচলিত হয়ে পড়েছে।

আর পাঁচ নম্বর আঙ্গুলটির নাম লিটল ফিঙ্গার বা কনিষ্ঠা। এই নামকরণের কারণও খুবই সুস্পষ্ট। পাঁচ আঙ্গুলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট বলেই এটিকে লিটল ফিঙ্গার বা কনিষ্ঠা হিসেবেই পরিচিত হয়ে ওঠে এটি।

এসএ/