যার ভাবনা থেকে জন্মায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার

Published: Thu, 26 Mar 2020 | Updated: Thu, 26 Mar 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যে স্যানিটাইজার নিয়ে এই যে এত মাতামাতি শুরু হয়েছে, মাত্র ৫০ বছর আগেও কিন্তু এটার অস্তিত্বও ছিল না। তখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে সাবান-পানিতেই আস্থা রাখতো মানুষ। কিন্তু হাসপাতালের কাজের মধ্যে সবসময় সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার ছিল একটা যন্ত্রণাকর বিষয়। তাছাড়া এর ফলে অনেক সময়ও ব্যয় হবে। বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বেকার্সফিল্ড শহরের নার্সিংয়ের ছাত্রী লুপি হার্নান্ডেজ। 

সময়টা ১৯৬৬ সাল। জন্মসূত্রে ল্যাটিন আমেরিকান লুপির ভাবনায় আসে দ্রুত হাত পরিষ্কার করে নেওয়ার উপাদানের বিষয়টি। পানি বা সাবান অপ্রতুল হলেও ব্যস্ততার মধ্যে যাতে হাত জীবাণুমুক্ত করা যায় এমন কিছুই ভাবছিলেন তিনি।  তার সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। আজ যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উঠে এসেছে প্রয়োজনের তালিকার শীর্ষে, তার আবিষ্কারক সেই সেবিকাই আজ বিস্মৃত। এমনকি তার সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্যও পাওয়া যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ১০০ মাইল উত্তরে বেকার্সফিল্ড শহরের নামকরণ কর্নেল টমাস বেকারের নামে। উনিশ শতকে তিনি এই অঞ্চলে বসতি শুরু করেছিলেন। তাকে অনুসরণ করে এখানে জনবসতি বাড়ে। ফলে বেকারের এলাকা বোঝাতেই ‘বেকার্সফিল্ড’। জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কৃষিতে সমৃদ্ধ এই শহরেই আবিষ্কৃত হয়েছিল স্যানিটাইজার। যাকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিচারে বৈপ্লবিক আবিষ্কার হিসেবে বলা যায়।

লুপির মনে হয়েছিল, হাতের কাছে সাবান এবং গরম পানি না থাকলে তার বিকল্প হতে পারে অ্যালকোহল। তার মাথায় আসে, যদি অ্যালকোহলকে জেল-এর আকারে উপস্থাপন করা যায়, তা হলে কেমন হয়? নিজের ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে তিনি যোগাযোগ করেন এমন সংস্থার সঙ্গে, যারা পেটেন্টের ব্যাপারে সাহায্য করে। টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে তিনি তাদের সন্ধান পেয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমেই পেটেন্ট নথিভুক্ত করেন লুপি।

৫৪ বছর আগে লুপি ভাবতেও পারেননি তার আবিষ্কার একদিন জীবাণু আতঙ্কে আতঙ্কিত পৃথিবীর কাছে অন্ধের যষ্টি হয়ে দেখা দেবে। তবে প্রথমদিকে কিন্তু আমজনতার মধ্যে আদৌ পরিচিত ছিল না এর ব্যবহার। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তখন মূলত ছিল ডাক্তার, নার্সসহ জনস্বাস্থ্য বিভাগ সংক্রান্ত লোকজনের ব্যবহার্য জিনিস।

ক্রমে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের প্রচলন শুরু হয় মার্কিন সেনাবিভাগে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আমজনতার মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায় ২০০৯ সালে। এইচ ওয়ান এন ওয়ান সংক্রান্ত মহামারির সময়। করোনার দৌলতে বিশ্ববাজারে লিকুইড সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা বেড়েছে ৪০০ শতাংশ।

তবে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা এখনও বলেন, জীবাণুমুক্ত করার বিষয়ে যে কোনও সাবানের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কিন্তু পানি ছাড়া তো আর সাবান ব্যবহারের উপায় নেই। তাই যেখানে পানি নেই, সেখানে স্যানিটাইজার বিকল্পহীন। ফলে এর অজ্ঞাত ও বিস্মৃত আবিষ্কারক নতুন করে উঠে এসেছেন আলোচনায়। অর্ধশতক আগের এক নার্সিংয়ের ছাত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করছে কোভিড-১৯ নামের করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কম্পমান একুশ শতকের আধুনিক বিশ্ব।

ও/এসএ/