ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছে মিয়ানমার

Published: Tue, 28 Jan 2020 | Updated: Tue, 28 Jan 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক: নতুন করে সাতটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে এসব দেশের নাম ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই তালিকায় থাকতে যাচ্ছে মিয়ানমার। তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড ও ভিসাপ্রাপ্ত এবং শরণার্থীরা এর আওতায় নাও থাকতে পারেন। 

৬ মুসলিম দেশ ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ওপর ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নাগরিক আর ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘নতুন আরও কিছু দেশের নাম তালিকায় যুক্ত হবে।’ 

পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি জানান, এই মাসের শেষ নাগাদ ওই তালিকা ঘোষণা করা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া দেশগুলো হচ্ছে নাইজেরিয়া, সুদান, তানজানিয়া, ইরিত্রিয়া, কিরগিজস্তান, মিয়ানমার ও বেলারুস। এসব দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বা এর কারণ এখনও প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।  

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার জন্য নতুন করে বিবেচিত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আবার এসব দেশের কয়েকটি থেকে সম্প্রতি অপেক্ষাকৃত বেশি সংখ্যক শরণার্থী গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ৩০ হাজার শরণার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৯৩২ জনই মিয়ানমারের। 

২০১৭ সাল থেকে দেশটিতে বড় আকারের নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। ধারণা করা হচ্ছে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে কয়েকজন নির্দিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা বাতিল করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন যখন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে তখন প্রেসিডেন্টের এই সংক্রান্ত ক্ষমতা কমাতে কংগ্রেসে বিল আনতে যাচ্ছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট। 

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গত সোমবার জানিয়েছেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ডেমোক্র্যাটদের আনা বিলে বলা হবে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও জননিরাপত্তায় সেসব দেশের হুমকির প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

আইআর /