ফিলিপাইনে ‘মাদকযুদ্ধে’ হত্যার দায় নেই বললেই চলে: জাতিসংঘ

Published: Thu, 04 Jun 2020 | Updated: Thu, 04 Jun 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক : ফিলিপাইনে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে পুলিশের হাতে কেউ নিহত হলে তার জন্য তেমন কোনো জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয় না। এসব ক্ষেত্রে দুতার্তে সরকার ‘প্রায় দায়মুক্তি’ দিয়েই রেখেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের একটি প্রিয় স্লোগান ও প্রধান নীতি। এর ফলে ২০১৬ সালে দুতার্তে ক্ষমতায় আসার পর থেকে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। খবর আল জাজিরার।

২০১৬ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রদ্রিগো ফিলিপাইনে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। মাদকের কারবারীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো ‘যুদ্ধঘোষণা’ই করেন তিনি। পুলিশকে দেওয়া তার নির্দেশ ও উচ্চস্তরের বক্তব্যে হত্যার জন্য রীতিমতো উস্কানি  কিংবা ‘হত্যার অনুমতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। 

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ কোথাও অনুসন্ধান চালাবে মনে করলে সে জন্য পূর্বানুমতির দরকার হয় না। ইচ্ছে করলেই তারা যেখানে খুশি সেখানে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে অভিযান কিংবা যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। সেক্ষেত্রে বাধার মুখোমুখি হলে তারা ‘আত্মরক্ষা’র জন্য গুলি চালাতে পারে। 

অবশ্য এমন নয় যে, তাদের হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতটা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তারা হত্যা করলে সে জন্য খুব বেশি প্রশ্নেরও মুখে পড়তে হয় না। ২০১৭ সালে রাজধানী ম্যানিলার ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী কিয়ান দেলোস সান্তোসকে হত্যার জন্য তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রকাশ্য জনরোষ জন্ম দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছিল। 

শুধু যে বড়রাই পুলিশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তা নয়। প্রতিবেদনে ৫ মাসের এক শিশুসহ ৭৩ জন শিশুকে হত্যার কথাও উল্লেখ করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যাপক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের  বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের আচরণে মনে হয়, তাদের প্রায় মুক্তিই দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ বলেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে তাদের ‘পদক্ষেপ’ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ চেষ্টা করলে সে ক্ষেত্রে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে দুতার্তের ‘যুদ্ধের’ শিকার ভুক্তভোগীরা ফিলিপিন্সের চার্চে গিয়ে সান্তনা খোঁজেন। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক নীতি ও পদক্ষেপের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কভিড -১৯ বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দলিলটি জুনের পরে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে উপস্থাপন করা হবে। 

প্রতিবেদনে সরকারি হিসেবের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অভিযানে  ৮ হাজার ৬৬৩ জন মারা গেছে। তবে অন্যান্য সূত্রে এই সংখ্যা তিনগুণ হতে পারে বলে জানা গেছে।  

মানবাধিকার গ্রুপগুলো বলেছে দুতার্তের মাদকের বিরুদ্ধে মারা গেছে কম পক্ষে ২৭ হাজার। এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২৪৮ জন ভ‚মি ও পরিবেশগত অধিকার কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং ট্রেড ইউনিয়নকর্মী নিহত হয়েছেন।

আইআর /