ইবি কর্মচারীরা কী চা-সিগারেটের বিনিময়ে কাজ করেন?

Published: Wed, 16 Sep 2020 | Updated: Wed, 16 Sep 2020

আজাহার ইসলাম, ইবি : `৩ দিন ঘুরে নম্বরপত্র পেলাম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মচারীরা কাজের বিনিময়ে চা-সিগারেট কর্মসূচি চালু করেছে। জিল্লু-মনিরুলের নাকি চা-সিগারেট না খাওয়ালে মাথা ঠিক থাকেনা।'

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব রাজ। স্ট্যাটাসের কমেন্টে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘৩ দিন ঘুরে নম্বরপত্র পেলাম!  উচ্চমান সহকারী জিল্লু, মনিরুল আহসান ও অফিস সহায়ক মুরাদ। তাদের আচরণ দেখলে মনে হয়না পৃথিবীতে এত নিচু বন্যপ্রাণী আর আছে। টাকা ছাড়া কাজে হাত দিচ্ছে না। ১১টায় অফিসে এসে ১২ টায় ৩০ মিনিট চা-বিরতি আবার ১ টায় নেমে চলে যান।

জিল্লু-মনিরুলের নাকি চা-সিগারেট না খাওয়ালে মাথা ঠিক থাকেনা। তাই তারা কাজের বিনিময়ে চা-সিগারেট কর্মসূচি চালু করেছে। মুরাদ মুরব্বিকে একজন সৎ মানুষ ভেবে খুব সম্মান করতাম কিন্তু সে এখন জিল্লু-মনিরুলের দালাল। টাকার দরকষাকষি এই মুরব্বির  দায়িত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ ও মেস বন্ধ এমনকি করোনার ভয়ে কারোর বাড়িতে থেকে কাজ করারও উপায় নেই। এমন অবস্থায় যারা কাগজপত্রের জন্য দূর থেকে আসেন তারা যোগাযোগ করেই আসেন। শনিবার ও মঙ্গলবার উচ্চচমান সহকারী জিল্লু অফিসে আসেন। তিনি ১১ থেকে ২টা পর্যন্ত অফিস করবেন বলে জানা যায় কিন্তু তিনি অফিস করেন দেড় ঘণ্টা। তাহলে কত হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন সাবেক ইবিয়ানরা চিন্তা করুন! ক্যাম্পাসে জুনিয়ররা থাকলেও তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যেতো।

ইবি প্রশাসনের এই অত্যাচার থেকে সাবেক ইবিয়ানরা কোনদিন মুক্তি পাবেনা? অনেক দিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে গিয়ে হয়রানির স্বীকার হয়ে চলে আসা লাগে। কোন ইবিয়ান বড় ভাই যদি ইবি প্রশাসনে জব করেন তাহলে তার কাছে আমার অনুরোধ, এই সমস্যার সমাধানে কাজ করুন, হয়রানিমুক্ত কাজ করার পরিবেশ তৈরি করুন। প্রায় সব প্রতিষ্ঠান চাকরির ভাইভা নেওয়া শুরু করেছে, সাবেকরা তাদের কাগজপত্র হয়তো নিতে যাবেন। সবাই ভাল থাকবেন।’

এই স্ট্যাটাসে শুভ বিশ্বাস নামে এক শিক্ষার্থী কমেন্টে লিখেন, ‘এরা একটা সিন্ডিকেট তৈরি করে রাখছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। এই জন্যই এরা আরও বেড়ে গেছে। এদের বিরুদ্ধে কিছু একটা করা উচিত।’

মাহফুজা রুহি নামে এক শিক্ষার্থী কমেন্টে লিখেন, ‘আজ পর্যন্ত আমি এমন কোনো ছাত্র ছাত্রীকে পাই নি যে বিনা হয়রানি আর পেরেশানিতে প্রশাসন ভবন থেকে কাজ করতে পেরেছে।’

ও/এসএ/