শহীদ জোহা দিবসকে শিক্ষক দিবস স্বীকৃতির দাবি

Published: Sun, 16 Feb 2020 | Updated: Sun, 16 Feb 2020

রাবি সংবাদদাতা : দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (তৎকালীন রিডার) ড. শামসুজ্জোহার শাহাদাত বার্ষিকীকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এডুকেশন ক্লাব (আরইউইসি) আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। এসময় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা (১ মে ১৯৩৪ - ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯) ছিলেন একজন বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন।

মানববন্ধনে ক্লাবের সিনিয়র সদস্য শাহিনুর খালিদ বলেন, বিশ্বের প্রায় একশ’টিরও বেশি দেশে স্বতন্ত্র জাতীয় শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। এর পেছনে নিজস্ব পটভূমি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ১৯ শে জানুয়ারি যে শিক্ষক দিবস পালন করা হয় তার তেমন কোন পটভূমি নেই। আমরা চাই, জোহা স্যারের আত্মত্যাগ স্মরণে, তার চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তার শাহাদাত দিবসকে জাতীয় শিক্ষক দিবসের স্বীকৃতি দেয়া হোক।

মাহমুদ সাকি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে জোহা স্যারকে নিয়ে তেমন কোন লেখালেখি নেই। পাঠ্যপুস্তকে জোহা স্যারের আত্মত্যাগের ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত করা হোক। এছাড়া আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি জোহা স্যারের অর্ধশততম শাহাদাত বার্ষিকী। তাঁর আত্মত্যাগের এই পঞ্চাশতম দিবস থেকেই জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

বক্তারা আরো বলেন, যে জাতি গুণীজনদের মর্যাদা দেয় না সে জাতি সামনে এগোতে পারে না। জাতীয় বীর ড. শামসুজ্জোহা স্যারকে যদি আমরা মর্যাদা না দেই তাহলে আমরাও এগোতে পারবো না। তাই জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হোক। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নয় সারাদেশে এই দিবসটি পালনের জন্য স্বীকৃতি দেয়া হোক। 

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিবসটিকে জাতীয় মর্যাদার দাবি জানিয়ে আসছেন। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দিনটি জোহা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

ও/ডব্লিউইউ