সিকৃবিতে কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে

Published: Fri, 14 Feb 2020 | Updated: Fri, 14 Feb 2020

অভিযাত্রা ডেস্ক: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) তিন কোটি ৭০ লাখ টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা দিয়ে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরনের ব্যয় বহন করে আসছে বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাগজপত্র প্রমাণ হিসেবে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি ড. মতিয়ার রহমান হাওলাদার ঢাকায় থাকায় তার বক্তব্য নিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে ভিসি ঢাকায় ইউজিসি কার্যালয়ে গিয়ে তিনি তার বক্তব্য দেওয়ার পরপরই তদন্ত প্রতিবদেন দাখিল করা হবে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. ফেরদৌস জামান। 

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জামানতের টাকা থেকেই বিভিন্ন ব্যয়ের খাত উল্লেখ করে খরচ করা হচ্ছে। তদন্ত করার সময় দেখা যায়, যেসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এগুলোর সবগুলোতে স্বাক্ষর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. শহীদুল্লাহ তালুকদার, ড. গোলাম শাহি আলম ও বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর ড. মতিয়ার রহমান হাওলাদারের। 

তিনি আরও জানান, প্রায় সাত কোটি টাকা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলেও এগুলো দফায় দফায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। স¤প্রতি উত্তোলিত এক কোটি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে অবশিষ্ট রয়ে যায় তিন কোটি ৭০ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক শাখা থেকে সব তথ্য নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীলদের কাছে এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে তদন্ত কমিটিকে জানান। 

ভিসি মহোদয়ের বক্তব্য নেওয়ার পর পরই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। এরপর তারাই বিষয়টি দেখবেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাকা উত্তোলন ও ব্যয় করার নেপথ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ভিসি। তাদের হুকুমেই এসব কাজ হয়েছে। তদন্ত কমিটি ব্যাংক হিসাব চেয়েছিল। কিন্তু ভিসি ঢাকায় অবস্থান করায় তা পাওয়া যায়নি। 

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ শাখার পরিচালক ড. নূর হোসেন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে রেখে দেন। পরে কল করা হলে তিনি আর ফোন ধরেননি।

আইআর /