‘আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না’

Published: Sun, 16 Feb 2020 | Updated: Sun, 16 Feb 2020

রাবি সংবাদদাতা: ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। আমরাও মানুষ, আমাদের জীবন আছে। স্ত্রী সন্তানদের মুখে দু'মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারি। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে তিন হাজার টাকা বেতনে একজন মানুষ কি করে চলতে পারে? প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ, আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করে ২৮০টি পরিবারকে রক্ষা করুন।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত (মাস্টাররোল) ২৮০জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধনে এসব বলছিলেন এক প্রতিবন্ধী কর্মচারী। 

রবিবার বেলা ১১টায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনের সামনে ‘মাস্টাররোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বেকার সমস্যা দূরীকরণে তিনি গ্রহণ করছেন নানা পদক্ষেপ। কিন্তু বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে ২৫-২৭ বছর ধরে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে চাকরি করেও স্থায়ী নিয়োগ পাইনি। শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকে নির্দেশনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করছে না। 

তারা বলেন, উপাচার্য নতুন নিয়োগ দিচ্ছেন কিন্তু আমাদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সাত কার্যদিবসের আশ্বাস দিলেও তারা কোন সিদ্ধান্ত আমাদের জানায়নি। আমরা আর কত দিন আশ্বাসে বসে থাকবো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণে কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। আমাদের বঞ্চিত করে রেখেছেন তারা বছরের পর বছর।   

মানববন্ধনে মাস্টাররোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদের প্রয়াত সকাল কর্মচারীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এসময় প্রায় দেড় শতাধিক কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় মাস্টারোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বিষয়টি সুরাহার জন্য ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হুমায়ুন কবীরের আশ্বাসে সেদিনের আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। পরের দিন ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে ব্যান্যার লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। 

দাবি আদায়ে টানা ১০দিন আন্দোলন অব্যাহত রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে তারা। পরের দিন ১১ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি পেশ করেন।

ও/ডব্লিউইউ