শিশু হেলপারদের ইশারায় চলে বাস!

Published: Mon, 17 Feb 2020 | Updated: Mon, 17 Feb 2020

এস.ডি সাগর, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল রুটের লোকাল বাসের হেলপারেরা শিশু-কিশোর বয়সী। আর সেই সব অদক্ষ শিশু-কিশোরদের ‘হালকা যান’, ‘দ্রুত যান’, ‘ডানে-বামে যান ওস্তাদ’ এমন নির্দেশনায় ছুটে চলছেন বাসের ড্রাইভাররা। এ কারণে ঘটছে অঘটন আর প্রতিনিয়ত রাস্তায় ঝরছে তাজা প্রাণ। অপরদিকে যাত্রীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাফেরা করছে ঝুঁকির মধ্যেই।

এসব অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। বৈধ শ্রমিক যথেষ্ট থাকলেও রাস্তায় ইজিবাইকের কারণে আগের মত আর বাসে তেমন যাত্রী হয় না। ফলে অল্প আয়ে সংসার চলা কষ্টসাধ্য ব্যাপার শ্রমিকদের। এ কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর এলাকার এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জয়পুরহাট আধুনিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব অনিয়ম দেখার জন্য লোক আছে। কিন্তু তারা কি এসব দেখতে পায় না?’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব লোকাল বাসের যাত্রীদের ঝুঁকি চলাচল করতে হচ্ছে, কারণ প্রয়োজনের তাগিতে আমাদের গন্তব্যে যেতেই হয়।’

পাঁচবিবির উচাই গ্রামের এক গৃহবধূ একই বাসের যাত্রী। তাঁর ননদ জয়পুরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার দিয়ে ফিরছিলেন। তার ভাষ্যও একই রকম।

বন্ধন নামের বাসের ড্রাইভার আকবর হোসেন বলেন, ‘আগে গাড়িতে যাত্রী বেশী চড়ত কালেকশনও বেশী হত। বাস মালিককে দেওয়ার পর আমরাও ভালো টাকা পেতাম। রাস্তায় এখন ভ্যান-রিক্সা ও ইজিবাইক বেশী হওয়াতে আগের মত যাত্রী হয় না। কামাই করে যাওয়াই মালিককে দেওয়ার পর আমরা যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। একারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে।’

জয়পুরহাট বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার বৈধ কার্ডধারী শ্রমিক থাকলেও আগের তুলনায় বাস-ট্রাকে আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করছে। রাস্তায় যানবাহন চালানোর জন্য অনেক সময় শিশু-কিশোরদের এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদিও এটা কিশোর আইনে বাধ্যবাধকতা আছে। এরপরও মালিকের অনেক টাকায় কেনা বাসটি লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে এমন কাজ করতে অনেক সময় বাধ্য হতে হচ্ছে।’

ও/এসএ/