অষ্টগ্রামে গুদামের ব্যর্থতায় ধান সংগ্রহে সঙ্কট

Published: Wed, 16 Sep 2020 | Updated: Wed, 16 Sep 2020

অজিত দত্ত, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) : কিশোরঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় খাদ্য গুদামে কৃষকের অভ্যন্তরীন ধান সংগ্রহ করতে বিঘ্নতা দেখা দিয়েছে। অষ্টগ্রামের এই বিশাল হাওরাঞ্চলে বোরো ধান চাষের কৃষকের সংখ্যা ৩৫ হাজার। যার লক্ষ্যেমাত্রা প্রায় ২৫ হাজার মে. টন এবং কৃষি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৬ শ’ ১৫ হেক্টর। উৎপাদিত জমিতে ধানের ফলন হয় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬ শ’ ১২ মে. টন। কৃষক এলাকার চাহিদা পূরণ করার পরও এক-তৃতীয়াংশ ধান প্রতিবছর বাইরে রপ্তানি করে থাকে। 

উপজেলা খাদ্য গুদামে লটারির মাধ্যমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ ব্যবস্থা থাকায় প্রকৃত ও বৃহৎ কৃষকের ধান গুদামে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে লটারিতে টিকে যাওয়া অধিকাংশ কৃষিকার্ডধারী ব্যক্তির বোরো চাষের জমিন না থাকায় খাদ্য গুদামে চাহিদা অনুপাতে ধান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে কিছু সুবিধাভোগীরা স্বল্পমূল্যের কার্ডের কেনা-বেচা করে সুযোগ নিয়েছে। এ কারণে হাওরের প্রকৃত কৃষকের ধান স্বল্পমূল্যে চলে যাচ্ছে এলাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের হাতে। গত কয়েকবছর ধরে এরকম সমস্যা দেখা দিলেও এবছরের মত এতটা করুণ অবস্থা বিগত দিনগুলোতে দেখা যায়নি। 

গুদামে তথ্য নিয়ে জানা যায়, এবছর অথ্যাৎ ২০২০ সালের সংগ্রহকৃত ধানের বরাদ্ধ ছিল ৪ হাজার ৩ শ’ মে. টন। অথচ অতিরিক্ত সময় শেষে বর্তমানে ধানের মজুদ মাত্র ১ হাজার ৫ শ’ ৩২ মে. টন। বিষয়টি  উপজেলা খাদ্য গুদামের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আবার অনেক কৃষক ধান দিতে এসে বস্তা না থাকায় দীর্ঘদিন খাদ্য গুদামের অপেক্ষা শেষে ধান নিয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। এরকম অভাবনীয় দৃশ্য প্রায় কৃষকের মাঝেই শুনতে এবং বলতে দেখা যায়। 

এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে বাংগালপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী অকপটে স্বীকার করে বলেন, গুডাউনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে কৃষকের এমন ভোগান্তি হয়েছে সত্য। তবে আমি প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। এই হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের প্রকৃত কৃষকেরা এক ফসলি উৎপাদিত বোরো ধান সরকারিভাবে খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে না পেরে স্বল্পমূল্যে বাইরের আড়তদারদের নিকট বিক্রি করেছে।

এসকল বহুবিধ সমস্যা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এবিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা হবে। অষ্টগ্রাম খাদ্য গুদামের ধান সংরক্ষণের বিভিন্ন সমস্যার যে কারণ দেখা দিয়েছে তা খতিয়ে দেখে এর একটা সমাধান না নিলে ভবিষ্যতে  প্রকৃত কৃষকরা সরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে সম্পূর্ণরূপে অনীহা প্রকাশ করবে। এতে উপজেলা খাদ্য গুদামের পক্ষ্যে প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে গিয়ে অভ্যন্তরীন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।

ও/ডব্লিউইউ