জমিসংক্রান্ত বিরোধ : কলমাকান্দায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধার নামে চাঁদাবাজির মামলা

Published: Wed, 16 Sep 2020 | Updated: Wed, 16 Sep 2020

রেজাউল করিম, কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) : কলমাকান্দায় সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়ালকে (৭৫) প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় বার্ধক্যে আক্রান্ত মুক্তিাযোদ্ধার ছোট ভাই আব্দুল হামিদ ছোট্টনিকে (৭২) দ্বিতীয় আসামি করে ওই পরিবার আত্মীয় ও নারীসহ ১৮ জনের নামে ১০ লক্ষা টাকা চাঁদা দাবী উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়েছে নেত্রকোনার আদালতে। 

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলাটি দায়ের করেছেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রহিমপুর গ্রামের আবুল হাসেম ওরফে আব্দুল হাসিম। এ মামলার প্রধান আসামিরা হলো একই এলাকার ও মামলার বাদী’র প্রতিবেশি। আদালত মামলাটি সিআইডির কাছে তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন এবং তা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযোগ অনুসন্ধানে সরেজমিনে গেলে পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়াল অত্যন্ত স্বল্প স্বরে বলেন, ‘আমি ৬-৭ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে দিনযাপন করতেছি। জমিসংক্রান্ত বিরোধে হাসিম আমার নামে চাঁদাবাজি কেইস দিছে। যা একেবারেই মিথ্যা। এতে নারীসহ আমি, আমার অসুস্থ ছোট ভাই ছোট্টনিসহ ১৮ জনের নাম দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মামলার বাদীর সাথে যোগায়োগ করা হলে আবুল হাসেম ওরফে আব্দুল হাসিম জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিজে বাদী হয়ে জেলা আদালতে চাঁদাবাজি মামলা করার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ৭ ধারা মামলা করার পর তারা ওই জায়গায় রাতের বেলায় ঘর উঠাইয়া ফেলে। আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা  চাঁদা দাবি করে। না দিলে আমরা ঘর তুলে ফেলবো বলছে মুক্তিযোদ্ধা আওয়ালের সন্তানেরা। পরে আমি চাঁদাবাজি মামলা করেছি।’

এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়। 

এ বিষয়ে একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি আওয়াল অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ ও গত সাত বছর ধরে পঙ্গু অবস্থায় আছেন। তার ছোট ভাই ছোট্টনিও বিছানায় শয্যাশায়ী। তারা চাঁদা দাবী করে এটা কোন অবস্থাতে বিশ্বাসযোগ্য নয়, হাস্যকরও বটে। এ গ্রামে আমরা ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’  মামলার বাদী হাসিমকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আব্দুল খালেক তালুকদার বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধে হাসিম নামে ৭৫ বয়সের পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়ালের নামে জেলা আদালতে চাঁদাবাজি মামলার কথা শুনেছি। অসুস্থ  বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়ালকে প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা করেছে। যা মিথ্যা মামলা, খুবই দুঃখজনক ও আমি ব্যথিত হয়েছি। এর তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। পাশাপাশি ওই মামলার বাদী হাসিমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানাচ্ছি।’

ও/এসএ/