জোয়ারের পানিতে প্লাবিত রামগতির ২৫/৩০ টি গ্রাম

Published: Mon, 10 Aug 2020 | Updated: Mon, 10 Aug 2020

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার প্রায় ২৫/৩০ টি গ্রাম অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে অসংখ্য ঘরবাড়ী, কাচাপাকা রাস্তা, ফসলী জমি এবং বিভিন্ন পশুপাখি-পোল্টি খামার পানিতে তলিয়ে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৫ ও ৬ আগষ্ট) পূর্ণিমার ভরা কাটালের প্রভাবে উপজেলার সকল ইউনিয়ন এবং মেঘনা নদীর অদূরবর্তী চর ও চরাঞ্চল সমূহ স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৪/৫ ফুট উচ্চতার পানিতে প্লাবিত হয়। 

জানা যায়, টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় আলেকজান্ডার ইউনিয়ন, চর আলগী, চর রমিজ, বড়খেরী ও চর গাজী ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় মেঘনা নদীর স্মরণকালের সেরা অ-স্বাভাবিক জোয়ারের পানি সহজে লোকালয়ে প্রবেশ করে বসত ঘরের ভিটি, ফসলী জমি, মৎস্য- পোল্ট্রি খামার, হাট বাজার ও সড়ক পানিতে প্লাবিত হয়। 

অপ্রস্তুত থাকায় এ সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় হাঁস মোরগসহ গৃহস্তের প্রয়োজনীয় গৃহস্থালীর জিনিসপত্র।  
আলেকজান্ডার ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন কবলিত মেঘনা পাড়ের বসতিরা কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সমুদ্রের অস্বাভাবিক প্রবল জোয়ারে ঘরের ভিটিগুলো ডুবে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভেসে যায়। অনেকের গৃহপালিত গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস মোরগ হারিয়ে যায়। 

বিজ্ঞজনরা বলেন, মেঘনা নদী উপকূলের ৩৭ কি: মিটারের ৩২ কি: মিটারই অরক্ষিত। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী এবং প্রবল জোয়ারের পানিতে মৎস্য চাষীদের কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে যায় এবং বেশ কয়েকটি কাচা ঘর বিধ্বস্ত হয়। কয়েক শত হেক্টর জমির আমন ফসল বিনষ্ট হয় । 

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, জোয়ারে আমার ইউনিয়নের চর ও চরাঞ্চল সমূহের বেশী ক্ষতি হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল মোমিন জানায়, তাৎক্ষনিকভাবে খাদ্য দ্রব্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়িয়েছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে কাজ করছি।

আইআর /