মিথ্যা মামলা অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

Published: Tue, 25 Aug 2020 | Updated: Tue, 25 Aug 2020

তাজুল ইসলাম, বিরল (দিনাজপুর) : নিরাপরাধ মা ও ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে দাবি করে দিনাজপুরের বিরল থানার এসআই’সহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বিরল উপজেলার ভান্ডারা ইউনিয়নের বান্দইল গ্রামের ফাইজুর রহমান গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিরল থানার এসআই ফারুক হোসেন, এএসআই আনোয়ার হোসেন, এএসআই রাশেদুল হক রাশেদসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের নিকট ওই অভিযোগ দায়ের করেন। সদয় অবগতির জন্য ওই অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয়ে ।

অভিযোগে জানা গেছে, বিরল থানার এসআই ফারুক হোসেন, এএসআই আনোয়ার হোসেন, এএসআই রাশেদুল হক রাশেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ১৪ আগস্ট দুপুরের দিকে বান্দইল গ্রামের মাদকব্যবসায়ী মোজাম্মেল হককে তার বাড়ি থেকে আটক করে। তার সাথে থাকা জনৈক জুয়েল নামের আরেক মাদকব্যবসায়ী পালিয়ে যান। এ সময় ধৃত মোজাম্মেলের মৃত ভাইয়ের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত ঘরের দুই কোনার বালুর নিচ থেকে ৪ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ৫০ বোতল) ফেন্সিডিল উদ্ধার করে ধৃত মোজাম্মেলকে ফেন্সিডিলসহ থানায় নিয়ে আসা হয়। জব্দ তালিকায় মাত্র ১০০ বোতল ফেন্সিডিল দেখিয়ে পলাতক জুয়েলকে আসামি না করে ধৃত মোজাম্মেলসহ কোতয়ালী থানার রামসাগর এলাকার জনৈক এরশাদ নামের এক ব্যক্তিকে পলাতক দেখিয়ে এসআই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি মাদক মামলা (নং-১৬, তাং-১৪/০৮/২০২০ ইং) দায়ের করেন।

পরদিন ১৫ আগস্ট দুপুরের দিকে মাদকব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের বসতবাড়ির পূর্ব-দক্ষিণ কোনে লিচু গাছের পাশের একটি গর্ত থেকে  আবারও ৪ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ৫০ বোতল) ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। তার পরদিন ১৬ আগস্ট এসআই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে জব্দ তালিকায় মাত্র ৬০ বোতল ফেন্সিডিল ফাইজুর রহমানের বাড়ির আঙিনায় উদ্ধার দেখিয়ে ফাইজুরের স্ত্রী লুৎফা বেগম ও স্কুল পড়ুয়া ছেলে লতিবুর রহমানকে পলাতক আসামি করে মামলা (নং-১৭, তাং-১৬/০৮/২০২০ ইং) দায়ের করেন। 

সরজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ বলেন, ফাইজুর রহমান ও তার পরিবারের কেউ কোনোদিন মাদকব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না। তার ছোট ভাই মোজাম্মেল হক মাদকব্যবসার সাথে জড়িত। আসল অপরাধীর ব্যবস্থা হোক। কিন্তু নিরাপরাধ যারা তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী করে মিথ্যা মাদক মামলা করে? পুলিশের এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্নও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী ফাইজুর রহমানসহ এলাকার সচেতন মহল সরজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরাপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষার জন্য পুলিশ সুপারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

ও/ডব্লিউইউ