রংপুরে দুলছে সরিষা ফুল, হাসছে কৃষক

Published: Tue, 21 Jan 2020 | Updated: Wed, 22 Jan 2020

শরিফুল, রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের শহর থেকে গ্রামের মাঠে মাঠে দুলছে সরিষা। সবুজের আগায় দোলা হলদে সরষে ফুলে মৌমাছিরা ঘুরপাক খাচ্ছে। বাতাসে দুলছে সরিষা ফুল, হাসছে কৃষক।

দিগন্ত জোড়া সরিষার বাম্পার ফলনে বেজায় খুশি কৃষকের মন। এবার রবিশস্য হিসেবে রংপুর অঞ্চলে গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এখন ভালো দামের আশায় সরষে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উত্তরের চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গেল বছরের তুলনায় এবার রংপুর অঞ্চলে সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় ৩৮ হাজার ৯৪১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৭০.৫৪ শতাংশ অর্জন হয়েছে। যা গেল বছরের চেয়ে ৬ হাজার হেক্টরের বেশি। গেল বছর ২৩ হাজার ৪৮৯ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।

এখন কৃষকের চোখে মুখে ভালো দামে সরিষা বিক্রির আশা। আর দেড় থেকে দুই মাস পর সরিষা ঘরে তোলার সময় বর্তমান বাজার অনুযায়ী দাম পেলে আগামীতে এ অঞ্চলের সরিষার চাষাবাদ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় ১১ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা রংপুর কৃষি অঞ্চলের অন্যান্য জেলার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে লালমনিরহাট জেলায়। এখানে মাত্র ২ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধায় ৬ হাজার ২৫ হেক্টর, নীলফামারীতে ৫ হাজার ৩৯০ হেক্টর এবং রংপুরে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

রংপুরের মমিনপুর এলাকার নয়ারহাটের কৃষক কুরবান আলী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার তার ৩০ শতাংশ জমিতে সরিষার ভালো চাষ হয়েছে। আর দেড় থেকে দুই মাস পরই এ ফসল ঘরে উঠবে। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারও সরিষা আবাদ করেছেন তিনি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সারোয়ারুল হক জানান, অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা উৎপাদনে খরচ অনেক কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় সরিষা চাষে রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন। সম্পূরক রবি শস্য হিসেবে সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরিষা বীজ প্রদান করা হয়েছে। 

এরই মধ্যে চাষকৃত সরিষার বেশির ভাগেই দানা ও ফুল এসে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা বেশি দিন স্থায়ী হলে সরিষার ফলনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী।

তিনি আরও জানান, গত বছর বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষার আবাদ কম হয়েছিল। এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় সরিষার আবাদ গেল বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। যদি শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব কমে আসে তাহলে আবাদে কোনো প্রভাব পড়বে না।

 

ও/ডব্লিউইউ