রাজশাহীতে মেস ভাড়া বিষয়ে মা‌লিক স‌মি‌তির নতুন সিদ্ধা‌ন্ত

Published: Thu, 04 Jun 2020 | Updated: Thu, 04 Jun 2020

সে‌লিম উদ্দীন,রাজশাহী: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ থাকা মেসের ভাড়া ৪০ শতাংশ মওকুফ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ছিলেন রাজশাহী মেস মালিক সমিতি। গত মে মা‌সের ১০ তা‌রি‌খে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মেস মালিক নেতাদের সঙ্গে বসে ঐ সিদ্ধান্তের পর ডি‌সি হামিদুল হক স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু গত সোমবার ‘রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতি’ নামের আর একটি সংগঠন ‘জরুরি নোটিশ’ দিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সেখানে বলা হয় এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মেসভাড়ার পুরো টাকা আদায় করার কথা জানা‌নো হয়। এতেক‌রে মেসের শিক্ষার্থীরা চড়ম বিপাকে পড়েছেন।

গত ১০ মে রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠ‌কে জেলা প্রশাসকের দেওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, এপ্রিল মাস থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মোট ভাড়ার ৬০ শতাংশ মেসভাড়া পরিশোধ করবেন। আগে শিক্ষার্থী ও মেসের মালিকেরা যেভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেন এখনো সেভাবেই করবেন। 

 বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী মেসভাড়া পরিশোধ না করলে, তাঁর সিট বরাদ্দ বাতিলসহ মেসের মালিকেরা নতুন করে সিট বরাদ্দ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত অনেক শিক্ষার্থী মেনে নিয়েছিলেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক মাস যে‌তেই সংগঠন থেকে আর এক‌টি নতুন সিদ্ধান্ত এল।

মহানগর মেস মালিক সমিতির নেতারা জানান, সমগ্র রাজশাহী মহানগরী‌কে প্রতিনিধিত্ব করে এ ধরনের কোনো মেস মালিক সমিতি এখনও রাজশাহীতে নেই। তাই তারা রা‌সিক মেয়রের সঙ্গে বসে ১৭ মে রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতি নামে একটি নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করান। 

এরপরে তারা মেসভাড়া নিয়ে ২৮ মে রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগর মেস মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হকসহ মহানগর মেস মালিক সমিতির মা‌লিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত সভার সিদ্ধান্ত মোতা‌বেক মঙ্গলবার একটি জরুরি নোটিশ প্রকাশ করে। ঐ নোটিশে তারা তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সিদ্ধান্তগুলো হলো, সব মেস মালিক তাঁদের প্রতিষ্ঠানের বোর্ডারদের কাছ থেকে এপ্রিল, মে ও জুন মাসের সিটভাড়া সম্পূর্ণ আদায় করবেন।

তবে যেসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা করোনা ভাইরাসের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, সেইসব পরিবারের বোর্ডারদের ক্ষেত্রে মেসের মালিকেরা ব্য‌ক্তিগত বিবেচনায় মানবিক দিক ভে‌বে ভাড়া সর্বোচ্চ মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নি‌তে পার‌বেন এবং ছাড়কৃত ভাড়া আদায়ের নথি সংরক্ষন করে তা রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতিতে তার অনুলিপি প্রদান করবেন।

এছাড়া জুলাই মাসের ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক প‌রি‌স্থি‌তি বিবেচনা পূর্বক পরব‌র্তি সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মেস মালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের বোর্ডারদের সিট ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে সদয় আচরণ করবেন এবং এতে কোনো বোর্ডার খারাপ আচরণ করলে তা সমিতিকে জানাতে বলা হয়ে‌ছে।

নতুন মা‌লিক স‌মি‌তির নতুন সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা  ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ‘রাজশাহীর মেসভাড়া মওকুফের দাবি’ নামের ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,জেলা প্রশাসক আগে যে ৪০ শতাংশ মেস ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত জা‌নি‌য়ে ছি‌লেন, তারা সেই সিদ্ধান্ত মানবেন। নতুন ক‌রে নেওয়া নতুন সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং প্রয়োজনে তারা গনহারে মেস ছাড়‌বেন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বর্তমান এই পরিস্থিতিতে যেখানে সম্পুর্ন ভাড়া মওকুফ করার কথা সেখানে উল্টো আবার পুরো ভাড়াই চাওয়া হচ্ছে। এটা য‌দি করা হয় তাহ‌লে তাদের পরিবারের উপর চড়ম জুলুম করা হ‌বে। বর্তমান এই প‌রি‌স্থি‌তি‌তে তারা কোনোভাবেই এই টাকা পরিশোধ করতে পারবেন না।

নতুন রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, আগের যে সিদ্ধান্তটি হয়েছে, সেটার প্রতিনিধিত্ব করেছিল রাজশাহী মহানগরীর একটি এলাকা। কিন্তু নগরীতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো মেস রয়েছে। ঐ সিদ্ধান্তে তাদের নানা সমস্যা থাকায় আবার আলোচনায় ক‌রেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এছাড়া সভাপ‌তি আরও বলেন, তারা করোনার প্রভা‌বে ক্ষ‌তিগ্রন্থ অভাবী পরিবারের বোর্ডার‌দের মেস ভাড়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ ছাড় দেবেন এবং কোন মেসে কতজন বোর্ডার‌কে ছাড় দেওয়া হলো,তার সেইসব নথি ফাইল আকা‌রে নিয়মিত জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হ‌বে।

এ ব্যাপা‌রে রাজশাহী জেলা প্রশাসক  হামিদুল হক বলেন, তিনি রা‌সিক মেয়রের অনুরোধে গত ২৮ মে নগরীর মেস মালিকদের সঙ্গে বসেছিলেন এবং যেহেতু তি‌নি আগে একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তাই নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত আর দেননি। 

বর্তমা‌নে যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন তারা, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। এখানে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই ব‌লে তি‌নি জানান। তবে সভায় মেস মা‌লিক‌দের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ মানবিকতা দেখাতে অনুরোধ করা হয়।

আইআর /