বারোভূতের ভোগে পড়েছে রাজউক

Published: Sun, 09 Feb 2020 | Updated: Sun, 09 Feb 2020

মোহাম্মদ আবু নোমান : গ্রামবাংলায় ‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা’ দেয়ার গল্প বহুল প্রচলিত। রাজউক যেন সেই প্রবাদেরই সফল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে দেখে, আমরা হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না! রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকায় জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন ভবন বৈধ করার সুপারিশ এসেছে। সংস্থাটির প্রক্রিয়াধীন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের (২০১৬-২০৩৫) খসড়ায় এ সুপারিশ করা হয়েছে। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে শহরের বসবাসরত জনগণের সেবামূলক ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালনার যে উদ্দেশ্যে রাজউক গঠন করা হয়েছিলো, তা এভাবে বারোভূতের ভোগে লাগতে দেওয়া যায় না। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, রাজউক এখন সেবার পরিবর্তে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাজউক এখন তার মূল ভূমিকা থেকেই সরে গেছে বলে আমরা দেখছি। 

অনুমোদনহীন বা নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করা ভবনগুলো রাজউকের তদারকির অভাব ও অস্বচ্ছতার কারণেই হয়েছে। এখন আবার এসব অবৈধ ভবন বৈধ করতে পিছনের দরজা (ঘুষের রাস্তা) উন্মুক্ত করা নয় কী? মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাজউক ও দুর্নীতি’ এখন সমার্থক। চোখ কপালে ওঠার মতো খবর যে, কোথাও কোথাও প্রায় ৯৭ শতাংশ ভবন নকশার ব্যতয় ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। দখলকারীরা মহা-উৎসবে, রাজউককে ম্যানেজ করে, মহা-সমারোহে সরকারি খাল, ঢাল, নদী, রাস্তার উপর স্থাপনা গড়েছে। তাহলে রাজউকের কী দরকার? তারা কী তদারকি করেছে? এতোদিন কী পাহাড়া দিয়েছে? এখন এসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দমন/শাস্তির ব্যবস্থা না করে, রাজউকের মত চরম দুর্নামগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনরায় জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন ভবন বৈধ করার দায়িত্ব দেয়া মানে ‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া’ নয় কী?

প্রাসঙ্গিকক্রমে গ্রামবাংলার বহুল প্রচলিত ‘শেয়াল মুরগির কেচ্ছা’ না বললেই নয়- এক বনে অনেক মুরগি থাকত। কিন্তু তারা নিজেরা সারাক্ষণ মারামারি করত। বনের রাজা অনেক ভেবে-চিন্তে মুরগিদের নিরাপত্তার জন্য কিছু শিয়াল নিয়োগ দিলেন। সেই থেকে গঠিত হলো নতুন এক বাহিনী। মুরগি রক্ষা বাহিনী। বাহিনী অ্যাকশনে নেমে গেল কিন্তু সাধারণ মুরগির মৃত্যু কমল না। একদিন বনের রাজা মুরগি রক্ষা বাহিনীর প্রধানকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ব্যাপার কী, এত মুরগি মারা যাচ্ছে কেন?’ বাহিনীর প্রধান বললেন, ‘মুরগিগুলা খুব বদমাইশ! একটাকে ধরে জিজ্ঞেস করলাম এত যে মারামারি করো, অস্ত্র পাও কই? তারপর গভীর রাতে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলাম কিন্তু আগে থেকেই ওত পেতে থাকা কিছু মুরগি আমাদের আক্রমণ করল! আমরাও আক্রমণ করলাম, ব্যস কানা মুরগিটা স্পট ডেড!’

তারপরও সাধারণ মুরগির মৃত্যু কমল না। বিষয়টি নিয়ে বনের রাজা মুরগি রক্ষা বাহিনীর প্রধানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি একই ব্যাখ্যা দিয়ে চললেন। সাধারণ মুরগিদের মধ্যে গুঞ্জন উঠল, শিয়াল নিজেই মুরগি খাওয়া শুরু করেছে! কিন্তু বনের রাজা ভাবলেন, তা কী করে হয়!

একদিন দিনে-দুপুরে একদল শিয়াল কয়েকটা মুরগি ধরে নিয়ে গেল। সেদিনই মুরগিগুলোর পা-পাখনা পাওয়া গেল বনের পাশের এক ডোবায়। সবাই নিশ্চিত হলো শিয়াল নিজেই মুরগি খাওয়া শুরু করেছে! সেই থেকে ‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া’ প্রবাদটি প্রচলিত। যার অর্থ রক্ষকই যখন হয়ে উঠে ভক্ষক। বা অন্যভাবে বলা হয়, মুরগির খামারে যখন শেয়াল চৌকিদার!

কোনো রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বা বিচারহীন কর্মকাণ্ড শুরু করে, তখন নিশ্চিত এর মধ্যে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষও অ্যাটাকিং হয়ে পড়ে। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় রোগ নিরাময়ের পূর্বশর্ত। দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ক্রয়ফায়ার বা এনকাউন্টারে মৃত্যুও তার প্রকৃষ্ঠ উদহরণ। অপকর্মকারীদের প্রতিহত করতে হবে, না হয়তো দেশ অন্যায়, অবিচার ও অমঙ্গলে ভরে যাবে। দেশে ব্যাঙের ছাতার ন্যায় ছেয়ে গেছে দুর্নীতি। এ সব দেখার দায়ীত্ব যাদের তারাই আবার ভিন্ন কৌশলে অবৈধকে বৈধ করার বাহানা আঁটছে। শেয়ালের শিয়ানাগিরীর গল্পটা আজ বাস্তবরূপে দৃশ্যমান। শিয়ালের রাজ্যে এখন খুবই দরকার সিংহের গর্জন। আজ প্রকৃত সিংহের বড্ড প্রয়োজন। তবে মাঝে মধ্যে আমরা হিংহের গর্জন ঠিকই শুনতে পাই। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা শিয়ালের সংস্পর্শে এসে একসময় নিজেরাই শিয়াল বনে যান!

ইতিপূর্বে রুপপুর বালিশ দুর্নীতি, ফরিদপুর মেডিকেলের পর্দা কেলেঙ্কারীর ছাপিয়ে দেশের যে খবরটি টক অফ দা কান্ট্রি হয়েছিল- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার দুর্নীতি। তাও অন্য কোনভাবে নয়, খোদ মাদক ব্যবসায় নিজেকে জড়িত করে। হেলালউদ্দিন নামের এ ব্যক্তি ছিলেন, যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক। নিজের ভাই আজাদের নামে রাজধানীর অভিজাত পাড়া নামে খ্যাত গুলশানে মদের বারের লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়ে নিজেই চালাচ্ছেন বহু বছর ধরে। তিনি গড়েছেন শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। তার কর্মস্থল যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে হলেও তিনি বেশিরভাগ সময় থাকেন রাজধানীতে। বাড়ি গাড়ি স্ত্রীর নামে বেনামে এসব অবৈধ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি।

চালকের আসনে বসে থেকে কি করে এই অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এমন অবৈধ কাজ দিনের পর দিন পরিচালিত করছিলেন সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। মানুষের আস্থা অর্জন করা যাদের দায়িত্ব, দেশ জনগণের কল্যাণের জন্য যারা নিয়োজিত, সেসব সংস্থার ব্যক্তিবর্গ যদি এহেন দুর্নীতি করেন তবে অবশ্যই তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিবেক, মনুষত্ববোধ লোপ পেয়ে তারা হয়ে উঠেছে শেয়ালের বংশধর। দেশপ্রেমতো নেইই, যা আছে সব অপকর্ম। নিজের স্বভাব চরিত্র কোনদিনও সংশোধন হবে না এদের। 

অনুমোদন ছাড়া বা নিয়মের ব্যত্যয় করে নির্মিত ভবন অপসারণ করাই বিধান। কিন্তু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় এমন ভবন অধিক হওয়ার কারণে বিকল্প চিন্তার কথা ভাবছে সংস্থাটি। যার অংশ হিসেবে উচ্চ হারে জরিমানা দিয়ে অনুমোদনহীন ভবন বৈধ করার সুপারিশ এসেছে। সুপারিশে নিয়ম বা বিধি ভেঙে নির্মাণ করা ভবনগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো- ১. নির্মাণ অনুমোদন না নেয়ার পরও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। ২. অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, কিন্তু নকশার ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। ৩. অনুমোদন নেওয়া হয়নি, পাশাপাশি নির্মাণের বিধিও অনুসরণ করা হয়নি। এই তিন শ্রেণির ভবন জরিমানা দিয়ে বৈধতা পাবে। ধরে নেয়া হলো, সুপারিশটি ভালো। কিন্তু জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি হবে না, এর ন্যূনতম নিশ্চয়তা দেয়া যায় কী? সব ভবনের মালিক সমান ব্যবস্থার সম্মুখীন হবে কী?

খসড়া ড্যাপের তথ্য অনুযায়ী, রাজউকের আয়তন ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার। এ এলাকায় ২০০৬ সালে মোট স্থাপনা ছিল ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৪১২ টি। ২০১৬ সালে এটি বেড়ে হয়েছে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৬। এই সময়ে প্রতিবছর ৯৪ হাজার ৯৩৩টি নতুন স্থাপনা হয়েছে। কিন্তু রাজউক প্রতিবছর গড়ে সাড়ে চার হাজার ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এই হিসাবে প্রতিবছর রাজউক এলাকায় প্রায় ৯০ হাজার স্থাপনা অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে।
ড্যাপ ছাড়াও ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত একটি পৃথক জরিপ করেছিল রাজউক। দুই তলার ওপর ২ লাখ ৪ হাজার ১০৬টি ভবনের ওপর পরিচালিত এই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পল্লবী এলাকার ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভবন; রামপুরা, মতিঝিল, খিলগাঁও এলাকার প্রায় ৯৭ শতাংশ ভবন; ধানমন্ডি এলাকার প্রায় ৮৯ শতাংশ ভবন নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বেড়েছে, আর দুর্নীতিবাজরা দিন দিন টাকার কুমির বনেছে। এটা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব। কি পরিমাণ দুর্নীতি হলে একটি দেশের রাজধানীর চিত্র এমন হতে পারে! একথা বলা কী দোষের হবে- আগেও টাকা খেয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখন আবার টাকার বিনিময়ে রক্ষা করা হবে?

গত এপ্রিলে বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর রাজউক এলাকার বহুতল ভবনের ওপর পরিচালিত জরিপে ৮৪ শতাংশ ভবন নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণের পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণকে ‘ব্যাপক মাত্রার সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অনুমোদনহীন বা নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত বিপদজনক ভবনগুলোকে জরিমানা আদায়ে বৈধতা দেয়া হলো, কিন্তু বনানীর এফ আর টাওয়ারের মতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যখন জান-মালের ক্ষতি হবে তার দারভার কে নিবে? এ সব ভবন ভেঙে পড়লে তার দায় কে নিবে?

আইনের চোখে সবাই সমান, এটি কেবল কথার কথা নয়, এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম মৌল ভিত্তি। আমরা সেই রকম দায়বদ্ধ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করতে পেরেছি কি? রাজউক জরিমানার ক্ষেত্রে যতই শ্রেণীবিন্যাস করুক না কেন, ঘুষের বিনিময়ে থার্ট ক্লাসকে ফাস্ট ক্লাস বানিয়ে চালিয়ে দেয়া হবে না তার নিশ্চয়তা কে দিবে?
তাহলে বুড়িগঙ্গা আর তুরাগ দখল করে যারা বাড়িঘর করে আছে তারাও জরিমানা নিয়ে হাজির হয়ে যাবে। র‌্যাংগস ও বিজিএমই ভবনের কি দোষ ছিলো? বরঞ্চ এসবের বৈধতার অনুমতি যারা দিয়েছিলো তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হোক। কারণ অন্যায় প্রশ্রয়কারীও কিন্তু সমভাবে অপরাধী।

কয়েক দিন আগেও খবর হয়েছে, রাজউকের পিয়নের হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তাহলে উপরওয়ালারা বুঝি এসব কিছুই জানেন না, বোঝেনও না। এভাবে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা যখন ঘুষ আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরে তখন সে প্রতিষ্ঠান চলছে কি করে? প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন ঘুষবাণিজ্যে ব্যস্ত, তখন নিচের কর্মচারীদেরতো আনন্দের সীমা থাকার কথা নয়। আর কোন প্রতিষ্ঠানের নিচের কর্মচারীরা যখন ঘুষ খান তখন তার উপরের যারা হর্তাকর্তা আছেন, তাদেরকেও তো নিশ্চয় ভাগ দিয়েই চলতে হয়। নাকি কেউ টেরই পায় না কিছু? একথা ঠিক যে সবাই দুর্নীতিবাজ না। এটাও ঠিক যে, ঘুষখোরদের কর্মকাণ্ড তাদের উপরের অফিসারদের প্রশ্রয় ছাড়া সম্ভব না, অন্ততঃ এটা কারোরই বুঝতে কষ্ট হয় না।

সংশ্লিষ্টদের মনে রাখতে হবে, মানুষের জীবন ও পরিবেশের চিন্তা না করে, যারাই খাল-বিল, নদী-নালা ছাড়াও অবৈধ ভবন নির্মাণ করেছে, তাদের এটুকুই শেষ সহায় সম্বল নয়। আইনের প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা, ভয় না করে, অবৈধ ও অন্যায় জেনে-বুঝেই তারা এসব করেছে। এদেরকে শাস্তি না দিয়ে টাকা দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আগামী প্রজন্মের জন্য অসনি সংকেত। এতে আইন অমান্যকারীদের সাহস বেড়ে যাবে। বরং ভেঙে ফেলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই জরুরি।

বিভিন্ন প্রকল্পে সেবাগ্রহীতাদের সাথে প্রতারণা, হয়রানির ও নিয়ম বর্হিভূত আর্থিক লেনদেন ছাড়া রাজউক থেকে ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত আছে বলে আমাদের জানা নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজউক কর্মকর্তা, দালাল ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের মাধ্যমে চুক্তি করে সুনির্দিষ্ট হারে নিয়মবহির্ভূত অর্থ নেওয়া হয়। জরিপের সময়ও চুক্তিভিত্তিক নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যদিও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত করে বলেন, অনুমানভিত্তিক অভিযোগ এনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা থেকে টিআইবিসহ অন্যদের সরে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী উক্ত প্রতিশ্রুতি কঠোরভাবে ধারণ ও দুর্নীতি বিনাশে যাদের উপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন তারা তাহলে কী করছেন? গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী মহোদয় টিইবির গবেষণার প্রতিবাদে যতোই সাফাই গান না কেন, তাতে পানি গরম হবে না। শুধু রাজউক কেন? সরকারের প্রতিটি সেক্টর পুরোপুরি দুর্নীতির সাথে মিশে গেছে। অর্থ ব্যতীত কোনও অফিস দ্রুত কাজ করে না।

দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। কাজেই দুর্নীতি রোধে সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করবো, সেবা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে। 

ও/এসএ/