বিলুপ্তির পথে গ্রাম্য সালিশি ব্যবস্থা

Published: Thu, 10 Sep 2020 | Updated: Thu, 10 Sep 2020

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও : এক সময়ের গ্রামের সালিশ ও রাজনীতি মনে এলেই মনের মধ্যে ভেসে ওঠে সুশীতল ছায়া ঘেরা স্থানে শান্তি-সৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিঃস্বার্থপর কতিপয় বয়োজ্যেষ্ঠ অভিজ্ঞ মানুষ শোভিত কোনো দৃশ্যের ছবি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই গ্রামীণ সালিশ ব্যবস্থাতেও ঢুকে পড়েছে স্বার্থপরতা, পক্ষপাতিত্ব ও অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন। আর গ্রামের ছোটখাট ঝগড়া-বিবাদ, পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো সালিশি বৈঠকে সামাধান করা গেলেও এখন তা সমাধান করা যাচ্ছে না।আর এসব থানা-পুলিশ ও আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। 

এসব হচ্ছে গ্রাম্য মাতব্বরদের কারণে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আগে চুরি-ডাকাতি ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা মাতব্বররাই করতেন। কিন্তু এখন সেটি আর সহজে হয় না। প্রতিপক্ষ আগপাছ না ভেবেই থানায় মামলা করে। আস্থাহীনতার কারণে গ্রাম্য সালিশি ব্যবস্থা বিলুপ্তির পথে।

আমাদের গ্রামীণ জনপদে ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ নামে একটি কথা প্রচলিত আছে। যারা যারা গ্রামে বসবাস করেন অথবা যাদের জন্ম গ্রামে, কিন্তু এখন শহরে বসবাস করেছেন তারা প্রত্যেকেই এই শব্দটির সাথে পরিচিত। ভিলেজ পলিটিক্সের ফাঁদে পড়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন এমন কী কাউকে কাউকে গ্রাম পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে। যার প্রমাণ প্রচুর রয়েছে। এই ভিলেজ পলিটিক্সের ফাঁদে পড়ে বহুনারী প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছে। 

ভিলেজ পলিটিক্সের নেপথ্যে সাধারণত গ্রামের কিছু সংখ্যক দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা থাকে। তারা এমন লোক যে মারাত্মক অপরাধ করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করে না। প্রতিবাদ করার সাহসও পায় না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই তাকে উল্টো ফাঁদে পড়তে হয়, বিপদে পড়তে হয় প্রতি পদে পদে। যারা এই গ্রাম্য রাজনীতির নায়ক তারা সবসময় সমাজের কাছে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চায়। অনেক সময় সেই চেষ্টাতে তারা সফলও হয়। গ্রামের সকলে তাদের সম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু প্রকৃতভাবে ওসব নায়কদের কেউ সম্মানের চোখে দেখে না। 

গ্রাম্য রাজনীতিবিদরা নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি লাভ করতে চায়। নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা সবকিছু করতে পারে। এরা যদি দেখে, গ্রামের কেউ তার চেয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছে বা ধন-সম্পদ তার চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছে তখন তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের প্রতিহত করে বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। যেভাবেই হোক তাকে সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা করে।

গ্রামে আরো একটি প্রবাদ আছে ‌‌‌'চোরকে বলে চুরি কর, আর গৃহস্থকে বলে সজাগ থাক'। এটা ভিলেজ পলিটিশিয়ানরাই করে থাকে। কিন্তু নিরীহ জনগণ এসব ভোগান্তির মুক্তি চায়। অতএব, যে কোনো ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে রক্ষার দায়িত্ব নিজের। কাজেই যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নিজে সতর্ক থেকে অন্যকে সতর্ক করতে হবে।

ও/ডব্লিউইউ