কোভিড-১৯ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

Published: Wed, 16 Sep 2020 | Updated: Wed, 16 Sep 2020

তানভীরুল ইসলাম : ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মূল উদ্দেশ্য দরিদ্র, ধনী ও মধ্য আয়ের দেশে আয়-ব্যয় ও উন্নয়নের সমন্বয় করে দরিদ্র্যতা দূরীকরণ, বেকারত্ব নির্মূলকরণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন। পাশাপাশি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা, যেন নিশ্চিত হয় সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা আর কর্মসংস্থানের বিষয়টি। ১৫ বছর মেয়াদী এই কৌশলে উন্নত থেকে শুরু করে অনুন্নত দেশগুলোতে গুরুত্ব পায় জলবায়ু পরিবর্তনরোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেই এগোচ্ছিলো জাতিসংঘ। যথাসাধ্য চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছিলো দেশগুলো। লক্ষ্য ছিলো ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য নির্মূল করে, পৃথিবীকে রক্ষা করে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা। কিন্তু এই উন্নয়ন যাত্রায় ভাটা পড়লো করোনা মহামারিতে। ২০২০ সালের এই মহামারি সংক্রমণে বিশ্ব চলে গেলো ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থায়। মহামারি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি চলে যাবে ১৯৩০ সালের গ্রেড ডিপ্রেশনের চেয়ে করুণ অবস্থায়। এমনটাই বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সংশ্লিষ্ট একটি রিপোর্টে।

করোনা পরবর্তী বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিতের বিষয়টি অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে জাতিসংঘের জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসডিজিভুক্ত ১৯৩টি দেশ এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে তা এখনই বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এই মহামারিতে এসডিজি সদস্য দেশগুলোর কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, সেটি এখনও পুরোপুরি নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদন বলছে, উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি চলতি বছর নেতিবাচকই থাকবে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরবর্তী অবস্থায় দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বেকারত্ব দূর করতেই দিতে হবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব। সেক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা। লক্ষ্যমাত্রার তালিকায় সর্ব প্রথম থাকতে হবে দারিদ্র্য দূরীকরণের বিষয়টি। এরপর ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী, এরপর গণ-স্বাস্থসেবা নিশ্চিতের বিষয়টি থাকতে হবে। পরবর্তী অবস্থানে থাকবে মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে সমতা আনায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি। পর্যায়ক্রমে আসবে অবকাঠামো উন্নয়ন। 

মহামারি শেষে বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাতের উন্নয়ন আর বাজারে প্রণোদনা সুবিধা দেয়ার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আর বিশ্বব্যাংককে এক্ষেত্রে পৃথক ভূমিকা রেখে ঋণসুবিধা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে, ২০৩০ সাল নাগাদ এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কতটুকু সম্ভব হবে, সে বিষয়েও অনিশ্চিত গোটা বিশ্ব।

বেকারত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই করোনাকালীন সময়ে। অর্থনৈতিকে আবার গতিময় করে তুলতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমনটি দরকার সেই সাথে মৌলিক অধিকার ও চাহিদাগুলো পূরণের দিকে নজর দিতে হবে। এই মহামারি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটছে। অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে আসার সাথে সাথে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের দিকে নজরে নিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক:
শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ও/ডব্লিউইউ